দৌলতপুরে ৭ বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

দৌলতপুর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:- কুষ্টিয়া দৌলতপুরে ৭ বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রামে সুরাইয়া খাতুন (৭) নামে ওই শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

মৃত সুরাইয়া খাতুন একই গ্রামের সম্রাট হোসেন ও রুনি খাতুনের মেয়ে। বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর শিশুটি তার নানা-নানির কাছে থাকতো। নিহত শিশুর পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ওইদিন সকালে মোবাইল ফোন আসক্তির কারণে নানি শিশু সুরাইয়াকে বকাবকি করে।

এ সময় নানি ঋণের কিস্তির টাকা দিতে বাড়ির বাইরে যান।

অন্য দিকে তার নানাও কৃষিকাজের জন্য মাঠে ছিলেন। সুরাইয়া বাড়িতে একাই ছিল। কিছুক্ষণ পর নানা বাড়িতে ফিরে সুরাইয়াকে খুঁজতে থাকেন। পরে ঘরে প্রবেশ করে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান নানি। স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

শিশুটির গলায় ফাঁসের চিহ্ন দেখতে পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পুলিশ আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সুরাইয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল এবং মাঝে মধ্যে তার শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়া করতো। তবে মৃত্যুর ঘটনাটি প্রথমে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। পরে হাসপাতালের চিকিৎসক পুলিশকে অবহিত করলে ঘটনা তদন্তে পুলিশ হাসপাতালে যান।

 

এবং শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠান। পরে ময়নাতদন্ত শেষে শিশুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে শিশুটির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয়দের মতে, মাত্র ৭ বছর বয়সী শিশু গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে এটা অস্বাভাবিক ঘটনা। তাই ঘটনাটি অধিকতর তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।