আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যে এইচআরএসএসের উদ্বেগ ও নিন্দা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

কাকলি সুলতানা বিশেষ  প্রতিনিধি:- সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ারও করবো’- পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) এমন বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনাকে সরকারি অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত করা আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের জন্য গুরুতর উদ্বেগজনক।

অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব; তবে তা অবশ্যই আইনসম্মত প্রক্রিয়া, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার বিভাগের কর্তৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে করতে হবে। কোনো ব্যক্তি অপরাধে অভিযুক্ত হলেই তার জীবন ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার খর্ব করা যায় না।সোমবার (২৬ অক্টোবর) হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে। একইভাবে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনও জীবনের অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা দেয়। তাই ‘ক্রসফায়ার’ কোনোভাবেই বিচারিক প্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না।

 

এইচআরএসএস সরকারের কাছে আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ব্যাখ্যা দাবি করছে। সরকার কি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে অনুমোদনযোগ্য মনে করে, নাকি এটি আইজিপির ব্যক্তিগত বক্তব্য—তা অবিলম্বে পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে বিরত রাখার বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার প্রত্যাশা করছে এইচআরএসএস।

 

এইচআরএসএস মনে করে, অপরাধ দমনে রাষ্ট্রের শক্তি প্রয়োগের বৈধতা নির্ভর করে আইনের প্রতি আনুগত্যের ওপর, বিচারবহির্ভূত পদ্ধতির ওপর নয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অপরাধীর বিচার আদালতেই হতে হবে- রাষ্ট্রীয় অনুমোদনেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোনো সুযোগ থাকতে পারে না।