এআইয়ের কারণে বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

আরিফুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি:- চাকরির বাজারে চোখ রাঙাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এআই। এর প্রতিযোগিতা এখন মানুষের সঙ্গে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগা কাজ করে দিচ্ছে চোখের নিমিষে। এতে বদলে যাচ্ছে কাজের ধরন, চাকরির বাজার।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বলছে, ৪ বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনে বিশ্বে নতুন চাকরি তৈরি হবে ১৭ কোটি। এর বিপরীতে চাকরি হারাবেন ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষ। এর মধ্যে বেশি ঝুঁকিতে ডাটা এন্ট্রি, কোডিং, হিসাবরক্ষণ থেকে কাস্টমার সার্ভিস ও রুটিনভিত্তিক কাজ।

এই পরিবর্তনের বাইরে নয় বাংলাদেশও। এন্ট্রি লেভেলের চাকরি দ্রুত দখল করছে এআই। তবে প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দেয়ার পথটাও বাতলে দিচ্ছে প্রযুক্তিই।

টিউলিপ টেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম মাজাদা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে আগের মতো ব্যাপক পরিসরে প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরি হচ্ছে না। কিন্তু যখনই আপনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে একটু দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন হয়ে যাবেন, তখন কিন্তু আবার আপনার জন্য চাকরির বাজারটা খুলে যাবে।

তাই, একজন শিক্ষার্থী অথবা যারা প্রাথমিক পর্যায়ে আছেন, আপনারা যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দক্ষতা অর্জন করতে পারেন, তাহলে আমার মনে হয় না চাকরির বাজারে খুব বেশি সমস্যা হবে।

দেশে এখনই এআইয়ের বড় প্রভাব না পড়লেও আগামীর জন্য প্রস্তুত হতে রপ্ত করতে হবে এর ব্যবহার। এ ছাড়া চাকরির বাজারে টিকে থাকতে সহায়তা করতে পারে কারিগরি শিক্ষা।

এদিকে, বিডিজবস ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ফাহিম মাশরুর বলেন, প্রতিবছর আমাদের এখানে ৭ লাখ গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে। এদের তো আমাদের চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। এখন তারা যদি আগের মতোই চিন্তা করে, পড়াশোনা শেষ করার পর কাজে ঢুকব, তাহলে তারা আসলে বেকার থাকবে।

তাদের আসলে ভিন্ন ধরনের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এজন্য আমরা বলি, আসলে বৃত্তিমূলক দক্ষতা তৈরি করা বা অর্জন করা দরকার। যেসব ক্ষেত্রে বাস্তবে প্রয়োগমূলক কাজের সুযোগ রয়েছে, সেই ক্ষেত্রগুলোতে কিন্তু চাকরির সুযোগ এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাও বলছে, বর্তমান বিশ্বে প্রতি চার কর্মীর একজন কোনো না কোনোভাবে এআই-সংশ্লিষ্ট পেশায় যুক্ত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাত ধরে তৈরি হচ্ছে নতুন চাকরিও। তাই লড়াইটা মানুষ বনাম এআই নয়—এর সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার।