দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় দেশব্যাপী সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে মহাপরিকল্পনা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

অনলাইন ডেস্ক:- দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে দেশব্যাপী সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।

বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থায় মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকারি ভবন থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের হাট বাজারের ভবনের ছাদগুলোতেও সৌর বিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ খাত সম্প্রসারণের সঙ্গে দেশীয় শিল্প গড়ে তোলার সুযোগও রয়েছে। সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কেবল ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।

 

বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা প্রতিবছর বাড়ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা ও আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। 

এ পরিস্থিতিতে দেশীয়ভাবে সহজলভ্য সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হচ্ছে। এ কারণে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।

 

তিনি বলেন, বড় প্রকল্পের পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ২০২৫ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ চাহিদা নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)-কে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ইতোমধ্যে ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটের বেশি হয়েছে। এর বড় অংশই সৌরবিদ্যুৎ। ফলে ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণেও সৌরশক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)’র চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রুফটপ সোলার ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে অতিরিক্ত জমি ব্যবহার ছাড়াই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, নেট মিটারিংয়ের সুবিধা আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে গ্রাহকদেরও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্পৃক্ত করা হবে। সরকারের সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে রুফটপ সোলার বা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ। সেড্রার চেয়ারম্যান আরও বলেন, ২০২৫ সালে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য স্থাপনার ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। 

তিনিই জানান, এ কর্মসূচির মাধ্যমে ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নতুন করে বড় পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন কমবে এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট ভবন বা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।