স্বাস্থ্যে দুর্নীতি রোধ না করলে মৃত্যুর মিছিল থামবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

মানিক মিয়া স্টাফ রিপোর্টার :- স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেছেন শুধু ডায়ালিসিস মেশিন কিনে বা হাসপাতাল তৈরি করে অসুস্থ মানুষের বা মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না, যদি সাধারণ মানুষের জন্য ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করা না যায়।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, নিকট অতীতের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ধারা ভাঙতে হবে এবং জনগণের চিকিৎসার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের একটি টাকাও দুর্নীতির গহ্বরে যেতে দেয়া হবে না।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বিশ্ব আয়োডিন দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), গেইন, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল এবং শিল্প ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

 

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতে নির্বাচনী ইশতেহারের মূল ভিত্তি হলো রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়া। তবে চিকিৎসাসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ভেজাল খাদ্য ও দুর্নীতি দুটোই জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় অন্তরায়। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় ডায়ালিসিস মেশিন ও বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হলেও ভেজাল খাদ্য বন্ধ না হলে কিডনিসহ বিভিন্ন ক্রনিক রোগের রোগীর সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জোরালো ভূমিকা কামনা করেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডারেরর কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিকে বিন্দুমাত্র বরদাস্ত করবেন না এবং যত শক্তিশালী ব্যক্তিই হোক না কেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ় আশ্বস্ত করেন।

আয়োডিনের ঘাটতি দূর করার কার্যকারিতাকে সাধুবাদ জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, বিগত বছরগুলোতে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আয়োডিনযুক্ত লবণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীতার হার অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

তবে ২০২৬ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী এখনও প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনবিহীন লবণ খাচ্ছেন। এই আটজনে একজন মানুষকে টার্গেট করে সুনির্দিষ্ট গবেষণার মাধ্যমে তাদের কাছে আয়োডিনযুক্ত লবণ পৌঁছে দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

এছাড়া, দেশের বিশেষ করে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পুষ্টিহীনতায় ভোগা প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলধারার পুষ্টি ও স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকের হোসেন খান, গেইনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকার, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. এ, কে, এম, মুসা এবং বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিকের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ।