মবিনুর রিমন ঢাকা:- ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের চলমান ধর্মঘট আগামী সাত দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এতে করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সেন্ট্রাল কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাতবর সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, ধর্মঘটের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিরসনে এর আগে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির নেতারা।
উক্ত আলোচনার পর সমিতির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে যৌথ বৈঠক করে আগামী সাত দিনের জন্য ধর্মঘট স্থগিত রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
সিদ্ধান্তের বিষয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাতবর জানান, দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম ভোগান্তি ও মানবিক দিক বিবেচনা করেই তারা আপাতত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে, ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন জানান, আগামী সাত দিন হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পর্যবেক্ষণ শেষে সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও করণীয় নির্ধারণ করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, হাসপাতাল মূলত রোগীদের সেবাকেন্দ্র। এখানে কোনো কারণে চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটুক, তা কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই বরদাশত বা সহ্য করবে না।
উল্লেখ্য, ঢামেক হাসপাতাল চত্বরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের স্থায়ী পার্কিং স্থান বরাদ্দের দাবিতে গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে হঠাৎ করেই এ ধর্মঘটের ডাক দেয় মালিক সমিতি। এর ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়।
ধর্মঘট স্থগিত হওয়ায় আপাতত স্বস্তি ফিরলেও, স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবি এবং সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে আগামী সাত দিনে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়-এখন সেদিকেই নজর থাকবে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সবার।




